মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে তৎপরতা যুক্তরাষ্ট্রে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কাছে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৮ সালের নির্বাচনে হোয়াইট হাউসের দৌড়ে কারা অংশ নিতে পারেন, তা নিয়ে দুই দলের ভেতরেই চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয় রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য উত্তরসূরি প্রার্থীদের অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
রিপাবলিকান শিবিরে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এত দিন ২০২৮ সালের নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তাঁকে এগিয়ে রাখা হচ্ছিল। কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় পরাজয়ের দায় তাঁর ওপরও পড়তে পারে।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ভ্যান্স দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন। তবে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দ্রুতই তিনি এ বিপর্যয় থেকে নিজেকে আলাদা করার চেষ্টা করেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ইরান যুদ্ধকে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তাঁর পক্ষে প্রেসিডেন্টের নীতি ও সিদ্ধান্তের দায় এড়ানো সহজ হবে না। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের জেমস লিন্ডসে বলেন, দায়িত্বে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্টদের মধ্যে খুব কমই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। ফলে ভ্যান্সের জন্য পরিস্থিতি সহজ নয়।
সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও। ৫৫ বছর বয়সী রুবিও মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় ছিলেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে ইরান যুদ্ধের বিষয়ে তাঁর অবস্থানও ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ছাড়া ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসের নামও আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন পেতে তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়কে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে উল্কাপাতের সঙ্গে তুলনা করেছেন। একই সঙ্গে দাবি করেছেন, ফ্লোরিডায় রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে।
টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা নাকচ করেননি। ২০১৬ সালের নির্বাচনে তিনি ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে টেক্সাসে সিনেট ও গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ। ৩৯ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের তরুণসুলভ ভাবমূর্তি এবং নির্বাচনী সাফল্য তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় এনেছে। তাঁর সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার তুলনাও করা হচ্ছে।
তবে অসফ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তাঁর কোনো আগ্রহ নেই। তা সত্ত্বেও জর্জিয়ায় তাঁর দ্রুত বিজয় এবং বিজয়ী ভাষণ ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তাঁর অবস্থান আরও শক্ত করেছে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তাঁকে মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে দলের একাংশ এমন কাউকে সামনে আনতে চায়, যাঁর আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের অভিজ্ঞতা নেই।
পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোও আলোচনায় রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যটিতে তিনি বিপুল ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৪ সালে কমলা হ্যারিস তাঁকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার বিদায়ী গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে। ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত নিউজম মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই বলেছিলেন, নির্বাচনের পর ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির ধরন বদলে যেতে পারে।
এ ছাড়া নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, শিকাগোর সাবেক মেয়র রাহম ইমানুয়েল, ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিৎজকার, কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার এবং অ্যারিজোনার সিনেটর ও সাবেক নভোচারী মার্ক কেলির নামও আলোচনায় রয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রিৎজকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের উপযোগী একটি বিস্তৃত কর্মসূচি তুলে ধরেছেন। সব মিলিয়ে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে দুই দলেই সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই ও রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
