ইসরাইলের নির্বাচনে রেকর্ড ভোটার উপস্থিতি, ছাড়িয়ে যেতে পারে ১৯৭৩ সালের হার
ইসরাইলের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাড়া দেখা গেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশটিতে ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। ২০২২ সালের নির্বাচনে একই সময় ভোটদানের হার ছিল ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রাথমিক এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালের পর একই সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে এবারের নির্বাচনে। তবে দিন শেষে মোট ভোটের হার কত দাঁড়াবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
দুপুর পর্যন্ত ভোটের হার নিয়ে যা জানা গেছে
ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্যের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ আগের নির্বাচনের একই সময়ের তুলনায় বেশি। দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটের হার ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছানোয় নির্বাচনের সার্বিক চিত্র নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছিল ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ২০২২ সালের নির্বাচনে একই সময় ভোট দিয়েছিলেন ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার। সেই হিসাবে এবারের নির্বাচনে দুপুর পর্যন্ত ভোটদানের হার আগের দুটি নির্বাচনের তুলনায় বেশি।
তবে এই পরিসংখ্যানকে চূড়ান্ত ভোটার উপস্থিতির রেকর্ড হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে দিন শেষে মোট ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ। এবারের নির্বাচনে সেই হার অতিক্রম করবে কি না, তা জানতে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
ভোটার উপস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ
পশ্চিম জেরুজালেম থেকে আল জাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে ভোট বিশ্লেষক মিচেল বারাক বলেছেন, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। তিনি ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাবেক সহকারী হিসেবে পরিচিত। বারাকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভোটদানের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তবে ভোটার উপস্থিতির হার বেশি হওয়া মানেই কোনো নির্দিষ্ট দল নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। ভোটের প্রকৃত ফল নির্ভর করবে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোট এবং নেসেটে আসন বণ্টনের ওপর।
সামরিক বাহিনীতেও ভোটদানের হার বেশি
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যেও ভোট দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টা পর্যন্ত সেনাসদস্যদের মধ্যে ভোটদানের হার ছিল ৪৮ শতাংশ। ২০২২ সালের নির্বাচনে একই সময়ে এই হার ছিল ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
সেনাসদস্যদের ভোট দেওয়ার সুযোগ বাড়াতে দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে আগাম ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। মূল প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে এক সপ্তাহ আগে ৮৫০টি কেন্দ্র চালু করা হয়।
ছোট দলগুলোর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন
ইসরাইলের সংসদ নেসেটে কোনো দলকে প্রতিনিধিত্ব পেতে মোট ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ অর্জন করতে হয়। ফলে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়লে ছোট দলগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ভোটের সংখ্যাও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে কোন দলগুলো সংসদে প্রবেশ করবে, তা সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
মিচেল বারাকের বিশ্লেষণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও দেশের পরিবর্তনের প্রশ্ন ভোটারদের বিবেচনায় রয়েছে। তাঁর মতে, বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি সাবেক ডানপন্থী জেনারেল ওফের উইন্টারের ‘আমচা ইসরাইল’ এবং ‘হামিলুইমনিকিম’ বা রিজার্ভিস্ট পার্টির মতো নতুন রাজনৈতিক দলও নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে, দুপুর পর্যন্ত ভোটদানের পরিসংখ্যান ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ভোটের হার, দলগুলোর আসনসংখ্যা এবং সরকার গঠনের পরিস্থিতি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।


