বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে সামগ্রিক পণ্যমূল্য ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সময়ে জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ এবং খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, খাদ্যশস্য পরিবহনে বিঘ্ন এবং এল নিনোর প্রভাবে কৃষি উৎপাদনে সম্ভাব্য ক্ষতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
World Bank+1
২০২৬ সালে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে ৩২ শতাংশ
বিশ্বব্যাংকের ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম গড়ে ৩২ শতাংশ বাড়তে পারে। এতে টানা তিন বছর দাম কমার প্রবণতা উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ছিল ৬৯ ডলার। ২০২৬ সালে তা বেড়ে ৯১ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে ২০২৭ সালে দাম কমে গড়ে ৭৯ ডলারে নেমে আসার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ ও মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবও জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেছেন, একাধিক বড় ধাক্কা একই সময়ে পণ্যবাজারকে প্রভাবিত করছে। তাঁর মতে, জ্বালানির বাড়তি ব্যয় ও বাণিজ্যিক সরবরাহে বিঘ্ন মূল্যস্ফীতি, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
World Bank+1
দুই বছরে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে ১৮ শতাংশ
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। এরপর ২০২৭ সালে আরও ৭ শতাংশ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। দুই বছরের সম্মিলিত হিসাবে দাম বৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৮ শতাংশ।
এই পরিস্থিতির পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের কারণে খাদ্যশস্য পরিবহনে বাধা, জ্বালানি ও সার উৎপাদনের ব্যয় বৃদ্ধি এবং আবহাওয়ার প্রতিকূলতা।
খাদ্য উৎপাদনের খরচ বাড়লে কৃষক ও উৎপাদকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। একই সঙ্গে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের বাজারমূল্যেও পড়তে পারে। এতে বিশেষ করে কম আয়ের মানুষের খাদ্য কেনার সক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এল নিনো বাড়াতে পারে কৃষি উৎপাদনের ঝুঁকি
খাদ্যপণ্যের বাজারে আরেকটি বড় উদ্বেগের কারণ এল নিনো। এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত গরম, খরা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এসব পরিস্থিতি কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে এবং ফসলের ফলন কমিয়ে দিতে পারে।
জ্বালানি ও সারের উচ্চমূল্যের কারণে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় এমনিতেই বাড়ছে। এর সঙ্গে প্রতিকূল আবহাওয়া যুক্ত হলে খাদ্য সরবরাহে আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
