রাজশাহীতে বিভাগীয় বইমেলা শুরু, শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ার আহ্বান

শিশুদের বইপড়া, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চায় আগ্রহী করার আহ্বান সংস্কৃতিমন্ত্রীর

গ্রাম ও শহরের সব শিশুকে শৈশব থেকেই বই পড়া, নিয়মিত খেলাধুলা এবং সংস্কৃতিচর্চায় অভ্যস্ত করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতের দক্ষ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে এসব চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম।

আজ বিকেলে রাজশাহী নগরীর কালেক্টরেট মাঠে নয় দিনব্যাপী বিভাগীয় বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, শিশুদের বেড়ে ওঠার সময় বই পড়া, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখা প্রয়োজন। এসব অভ্যাস তাদের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা ও মননশীলতা বিকাশে সহায়তা করে। আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতেও এ চর্চাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, অতীতে মূল্যায়ন ব্যবস্থায় অনিয়মের কারণে শিক্ষার প্রকৃত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একসময় পরীক্ষার খাতায় না লিখেও শতকরা ৯৮ ভাগ শিক্ষার্থীকে পাস করানো হয়েছে। এর ফলে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জন করলেও অনেক তরুণের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতার ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

তরুণদের বেকারত্ব প্রসঙ্গে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, যথাযথ শিক্ষা ও কর্মমুখী দক্ষতার অভাব বেকারত্ব বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তাঁর মতে, তরুণদের হতাশা ও কর্মসংস্থানের সংকটকে কাজে লাগিয়ে মাদকের বিস্তার ঘটছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসম্মত শিক্ষা এবং শিশু-কিশোরদের সুস্থ সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াচর্চার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। জাতীয় বাজেটের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। এ ছাড়া সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রাজশাহী অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে মেলা প্রাঙ্গণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বইমেলার উৎসবমুখর পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীর কালেক্টরেট মাঠে শুরু হওয়া এ বিভাগীয় বইমেলা আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সব বয়সী পাঠক ও দর্শনার্থী মেলায় এসে বই দেখা, কেনা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন উপভোগ করতে পারবেন।

বইমেলার মাধ্যমে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং নতুন প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

Leave a Comment