আগামী তিন মাসের মধ্যে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। এর মধ্যে শুধু ঢাকা শহর থেকেই ২৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সায়েন্স পলিসি ডায়ালগ অন ব্ল্যাক কার্বন অ্যান্ড আদার শর্ট-লিভড ক্লাইমেট পলিউট্যান্টস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা। পর্যায়ক্রমে এ সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে চায় সরকার।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার আগের সরকারের কাছ থেকে কিছু কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পেয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কয়লা পোড়ানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা বিপুলসংখ্যক ইটভাটা থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ব্ল্যাক কার্বন নির্গত হচ্ছে।
বায়ুদূষণের ১৩ শতাংশ ইটভাটা থেকে
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের মোট বায়ুদূষণের প্রায় ১৩ শতাংশের উৎস ইটভাটা। এসব ভাটায় উচ্চ সালফারযুক্ত কয়লা ব্যবহার করা হয়, যা পরিবেশদূষণের অন্যতম কারণ।
দূষণ কমাতে কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা ২০০টি ইটভাটা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব ভাটার বিকল্প হিসেবে কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ইটভাটা বন্ধের উদ্যোগ বাস্তবায়নে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কাজটি কঠিন হলেও সরকার পেশাদারত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। বায়ুর মান উন্নত করতে ইটভাটার দূষণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
সীমান্ত পেরিয়ে আসছে ৩০ শতাংশ বায়ুদূষণ: প্রতিমন্ত্রী
দেশের বায়ুদূষণের একটি অংশ সীমান্ত পেরিয়ে আসছে বলেও মন্তব্য করেন শেখ ফরিদুল ইসলাম। তার দাবি, বাংলাদেশের বায়ুদূষণের প্রায় ৩০ শতাংশ আসে প্রতিবেশী দেশ থেকে।
তিনি বলেন, ভারতের বেশিরভাগ ভারী শিল্পকারখানা সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থাপিত হওয়ায় সেখান থেকে দূষিত বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হওয়ায় এ ধরনের দূষণ মোকাবিলা করা বাংলাদেশের জন্য কঠিন।
বায়ুদূষণ কমাতে বৃক্ষরোপণ ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের পরিকল্পনা
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও পুনঃখনন এবং বৈদ্যুতিক বাস ও গাড়ি আমদানির পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তার মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বায়ুদূষণ কমাতে সহায়তা মিলবে।
ঢাকার চারপাশের পাঁচ নদীর দূষণের উৎস শনাক্ত
নদীদূষণ নিয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি জানান, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু ও ধলেশ্বরী নদীতে দূষিত পানি ও বিষাক্ত বর্জ্য পড়ার ৪২৪টির বেশি স্থান শনাক্ত করা হয়েছে।
এসব স্থানের মাধ্যমে কোনো ধরনের শোধন ছাড়াই শিল্পবর্জ্য, সিটি করপোরেশনের বর্জ্য, ঢাকা ওয়াসা এবং অন্যান্য সেবা সংস্থার নির্গমন নদীগুলোতে মিশছে বলে জানান তিনি।
ঢাকার চারপাশের নদী ও জলাশয় পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন যারা
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এ এস এম আব্দুল আওয়াল এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম এবং স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওরজান গুসটাফসোন যৌথভাবে সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন।
