নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ১৬ লাখের বেশি শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণ

শিশুদের মেধা ও প্রতিভায় গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

শিশু-কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মধ্য দিয়েই একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব আজকের শিশু-কিশোরদেরই নিতে হবে। এ জন্য পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি এবং বিদেশি ভাষা শেখার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-২৭’ প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, প্রত্যেকের মধ্যেই কোনো না কোনো প্রতিভা রয়েছে। সেই প্রতিভা বিকাশের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত সুযোগ ও পরিবেশ। তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে, তোমাদের তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের মালিক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। একজন শিশুকে ভবিষ্যতে ডাক্তার, প্রকৌশলী, স্থপতি কিংবা আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতেও দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। তাঁর মতে, বিশ্বে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে হলে জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও পারদর্শিতা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরিবেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা খেলাধুলার পাশাপাশি নাচ, গানসহ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরেছে। দেশের অন্য শিশু-কিশোরদেরও এভাবে বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

শিশুদের উৎসাহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা পারো, ইউ ক্যান ডু ইট। তোমরা পড়ালেখা করতে পারো, খেলাধুলা করতে পারো, একইভাবে শিল্প ও সংস্কৃতিতেও দক্ষতা অর্জন করতে পারো।’

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ১৬ লাখের বেশি শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি জানান, আগামী জুনে এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ৫০০টিরও বেশি উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের প্রতিযোগীরা অনলাইনে এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত বিপুলসংখ্যক শিশুর অংশগ্রহণ প্রমাণ করে দেশে প্রতিভাবান শিশু-কিশোরের অভাব নেই। তাদের বিকাশে প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিশুরা পড়াশোনার পাশাপাশি নির্বিঘ্নে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবে।

শিশুদের ভাষা শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরও ছয় থেকে সাতটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, পড়াশোনা, খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতির পাশাপাশি তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে পারলে আন্তর্জাতিক পরিসরে শিশু-কিশোরদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ বাড়বে।

তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, একদিন বাংলাদেশ বিশ্বের সামনে উন্নয়ন ও অগ্রগতির উদাহরণ হয়ে উঠবে। তখন অন্য দেশের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করার পরিবর্তে বিশ্ববাসী বাংলাদেশের উদাহরণ তুলে ধরবে।

এর আগে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে তিনি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করেন। একই সময়ে অনলাইনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় প্রতিযোগিতাটির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল। প্রধানমন্ত্রী বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা ছাড়াও চীনের শিক্ষার্থীদের ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্স উপভোগ করেন।

স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে থাকা শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদদের কাছে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় শিশু-কিশোরদের করতালি ও অভিবাদনে স্টেডিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

পরে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে গিয়ে সমবেত মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে সারা দেশ থেকে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছে। আগের আটটি ইভেন্টের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস। ফলে মোট ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশু-কিশোররা। ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত প্রতিযোগিতাটির প্রথম আসর গত ২ মে সিলেটে উদ্বোধন করা হয়েছিল।

Leave a Comment