রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে মানবিক ভূমিকা, মেলানিয়াকে জেলেনস্কির পদক

ইউক্রেনের জাতীয় সম্মাননায় ভূষিত হলেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প

রাশিয়া-অধিকৃত ইউক্রেনীয় শহর থেকে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে জাতীয় সম্মাননায় ভূষিত করেছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বুধবার এ সম্মাননা প্রদানের ঘোষণা দেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ডিক্রিতে মেলানিয়া ট্রাম্পকে ‘অর্ডার অব প্রিন্সেস ওলগা’র প্রথম শ্রেণির পদক দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতি মানবিক সহায়তা, মানবাধিকার রক্ষা এবং দাতব্য কার্যক্রমে তাঁর ব্যক্তিগত অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে বলে ডিক্রিতে উল্লেখ করা হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের রণাঙ্গনে অবস্থিত রুশ-অধিকৃত ওলেশকি শহরের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকরে ভূমিকা রাখেন মেলানিয়া ট্রাম্প। তাঁর উদ্যোগে ইউক্রেন ও রুশ বাহিনীর মধ্যে এ বিরতি কার্যকর হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে শহরটির বাসিন্দারা খাদ্য ও ওষুধের সংকটে ভুগছিলেন। সংঘাতের কারণে তাঁদের নিরাপদে অন্যত্র যাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় উভয় পক্ষের সামরিক বাহিনী সড়ক থেকে স্থলমাইন সরানোর সুযোগ পায়। এর ফলে বেসামরিক নাগরিকদের ইউক্রেনের অন্য এলাকায় কিংবা রাশিয়ায় যাওয়ার পথ তৈরি হয়।

মেলানিয়া ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস কার্যালয় মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ উদ্যোগকে নজিরবিহীন কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, একজন মার্কিন ফার্স্ট লেডির পক্ষ থেকে নেওয়া এ উদ্যোগ একটি ব্যতিক্রমী অর্জন।

রাশিয়া-ইউক্রেন প্রতিনিধিদের বৈঠকের উদ্যোগ

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, মেলানিয়া ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে হোয়াইট হাউসে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করবেন। তবে বৈঠকটি কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মানবিক প্রভাব কমানোর উদ্যোগের পাশাপাশি রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাতেও যুক্ত রয়েছেন মেলানিয়া ট্রাম্প। যুদ্ধের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি তাঁর মানবিক কার্যক্রমের অন্যতম অংশ।

ইউক্রেনের দেওয়া এ সম্মাননা এমন এক সময়ে এলো, যখন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের অন্যতম বিষয়। যুদ্ধক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট নিরসনে মানবিক উদ্যোগের গুরুত্বও এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।

মেলানিয়া ট্রাম্পকে দেওয়া ‘অর্ডার অব প্রিন্সেস ওলগা’ ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় সম্মাননাগুলোর একটি। দেশটির পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

তবে হোয়াইট হাউসে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য বৈঠক কবে হবে, কারা এতে অংশ নেবেন এবং আলোচনার পরিধি কী হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

Leave a Comment