রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে দেশটির কাছে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে পৌঁছাতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানায়। তবে বিক্রির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমছে ইউক্রেনের
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়ে আসছেন, রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বিক্রির মাধ্যমে ইউক্রেনের সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়বে। এতে দেশটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় আরও প্রস্তুত হতে পারবে।
তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কখন ইউক্রেনে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানায়নি ওয়াশিংটন।
দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জেলেনস্কির
শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, অনুমোদিত ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ শুরু হতে কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে।
তিনি জানান, পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে কীভাবে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারদের সঙ্গে সমাধান খুঁজছে কিয়েভ।
জেলেনস্কির প্রস্তাব, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মিত্রদেশগুলো চাইলে নিজেদের বর্তমান মজুত থেকে ইউক্রেনকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র দিতে পারে। পরে নতুন করে কেনা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মিত্রদেশগুলোর অস্ত্রভান্ডার পূরণ করা সম্ভব।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্যাট্রিয়ট
রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে ইউক্রেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাগুলোর একটি প্যাট্রিয়ট। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের আকাশ থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করতে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে ইউরোপের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখা একটি অংশীদার দেশের নিরাপত্তা জোরদার হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্যও এগিয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্কে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন
সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল জ্বালানি সরবরাহসংক্রান্ত একটি চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্র। এর পর দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এ ছাড়া ইউক্রেনের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করছে এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের কিছু কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।
তবে গত ২০ অক্টোবর নরওয়ের রাজধানী অসলোতে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা কিছুটা কমে আসে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, ৫০০টি ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে ইউক্রেনের মিত্রদেশগুলো। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে না।
