জনসনের উত্তরসূরি কে হচ্ছেন, স্পিকার পদে আলোচনায় স্ক্যালিস ও জর্ডান

মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পর রিপাবলিকান নেতৃত্ব ছাড়ছেন মাইক জনসন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর দলীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। বুধবার তাঁর মুখপাত্র এএফপিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে তিনি অবিলম্বে স্পিকারের পদ ছেড়ে দিচ্ছেন কিংবা কংগ্রেস থেকে বিদায় নিচ্ছেন।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনসনের নেতৃত্ব ছাড়ার খবরের সত্যতা জানতে চাইলে তাঁর মুখপাত্র ই-মেইলে এক শব্দে উত্তর দেন, ‘সঠিক’। এর আগে বুধবার সকালে নিজের কর্মীদের সিদ্ধান্তের কথা জানান লুইজিয়ানার এই রিপাবলিকান নেতা।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যাপক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। নির্বাচনের ফলকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল ও তাঁর নীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

৫৪ বছর বয়সী মাইক জনসন ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন। তৎকালীন স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থিকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর রিপাবলিকানদের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ দেখা দেয়। সেই অচলাবস্থা কাটাতে আপসপ্রার্থী হিসেবে স্পিকারের দায়িত্ব পান জনসন।

উত্তরসূরি নির্বাচনে আলোচনায় যাঁরা

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে প্রচারণা চালিয়েছিলেন জনসন। এমনকি ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ নিলেও দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।

তবে সংখ্যালঘু দলের নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের ফলে রিপাবলিকানদের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পথ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা স্টিভ স্ক্যালিস এবং বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জিম জর্ডান। দুজনই রক্ষণশীল রাজনীতির অনুসারী এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জনসনের নেতৃত্বের প্রশংসা করলেও তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় সরাসরি যুক্ত হবেন না বলে জানিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, স্পিকার জনসন অসাধারণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর অধীনে কাজ করা ব্যক্তিরাও ভালো ছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জনসন লুইজিয়ানায় নিজের নির্বাচনী আসন থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে দলীয় নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত তাঁর কংগ্রেসের সদস্যপদ কিংবা স্পিকারের দায়িত্ব তাৎক্ষণিকভাবে শেষ করছে না। বরং এটি রিপাবলিকানদের দলীয় নেতৃত্বের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণের প্রক্রিয়ার অংশ।

স্পিকার হওয়ার দৌড়ে ডেমোক্র্যাট নেতা জেফ্রিস

এদিকে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতা হাকিম জেফ্রিস বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে দলের আইনপ্রণেতাদের কাছে পরবর্তী স্পিকার পদে তাঁর প্রতি সমর্থন চেয়েছেন। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে স্পিকার নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হবে।

জেফ্রিস নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হবেন। তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে জেফ্রিস বলেন, প্রতিনিধি পরিষদ আর ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালিত হবে না। তিনি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনারও প্রতিশ্রুতি দেন।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়, শুল্কনীতি এবং ইরান যুদ্ধের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রতিনিধি পরিষদের নেতৃত্বে পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তবে পরবর্তী স্পিকার কে হবেন এবং নতুন কংগ্রেসে দুই দলের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে কাজ করবে, তা নির্ধারিত হবে আসন্ন নেতৃত্ব নির্বাচন ও জানুয়ারিতে নতুন অধিবেশন শুরুর পর।

Leave a Comment