পাঁচ বছরের বেশি সময় পর ছেলে কিম অ্যারিসের সঙ্গে কথা বললেন সু চি
দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর ছেলে কিম অ্যারিসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী অং সান সু চি। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মায়ের সঙ্গে কথা বলার পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন কিম অ্যারিস। বর্তমানে সু চি গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে মায়ের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অন্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে খবর পেতেন কিম অ্যারিস। সরাসরি মায়ের কণ্ঠ শুনতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি জানান, এই অভিজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
তবে দীর্ঘদিন পর কথা হলেও মা-ছেলের মধ্যকার বিচ্ছিন্নতা পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করেন অ্যারিস। তাঁর ভাষ্য, এই একটি ফোনালাপ মায়ের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া দীর্ঘ সময় ফিরিয়ে দিতে পারবে না। একই সঙ্গে তাঁর হারানো অধিকারও পুনরুদ্ধার হবে না।
কিম অ্যারিস মায়ের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি সু চির স্বাধীনভাবে চিকিৎসা নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছেন তিনি।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী-সমর্থিত প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, লন্ডনে অবস্থিত মিয়ানমার দূতাবাসের মাধ্যমে মা ও ছেলের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তাঁদের পৃথক ছবিও প্রকাশ করা হয়।
এদিকে শুধু নিজের মায়ের নয়, মিয়ানমারের সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তিও দাবি করেছেন অ্যারিস। তাঁর মতে, স্বাধীনতা কোনো দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়; এটি মানুষের অধিকার। তাই সব রাজনৈতিক বন্দিকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আটক রয়েছেন। সে সময় দেশটির সামরিক বাহিনী তাঁর নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং অভিযান চালিয়ে সু চিসহ বিভিন্ন বেসামরিক নেতাকে গ্রেপ্তার করে।
সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে এই আন্দোলনের একটি অংশ সশস্ত্র প্রতিরোধে রূপ নেয়। দীর্ঘদিনের সংঘাত দেশটিকে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
সামরিক বাহিনী-সমর্থিত নির্বাচনের পর অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হন। এরপর গত এপ্রিলে সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় স্থানান্তর করা হয়।
উসকানি, দুর্নীতি, নির্বাচনে জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনসহ একাধিক অভিযোগে সু চির ১৮ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।





