সৌদি-পাকিস্তানের সঙ্গে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন তুরস্কের
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ অনুমোদন করেছে তুরস্কের পার্লামেন্ট। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে দেশটির পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২৭৯ জন আইনপ্রণেতা চুক্তির পক্ষে এবং ১১৯ জন বিপক্ষে ভোট দেন। এর মধ্য দিয়ে তিন দেশের মধ্যে সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের পথ আরও এগিয়ে গেল।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
কী রয়েছে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় তিন দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অংশ নেন।
চুক্তির মূল লক্ষ্য তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সামরিক সহযোগিতা বাড়ানো। এর আওতায় কোনো সদস্যদেশ বহিরাগত সশস্ত্র হামলার শিকার হলে অন্য দুই দেশ তার পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক সমন্বয়, যৌথ প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে চুক্তিতে সহযোগিতার ধরন ও পরিধি পরিস্থিতি বিবেচনায় তিন দেশের আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো দেশে হামলা হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য দেশগুলোর সেনা মোতায়েন হবে, এমন বিধান নেই।
পার্লামেন্টে কী বললেন আইনপ্রণেতারা
চুক্তি নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনার সময় ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) আইনপ্রণেতা জিয়া আলতুনইয়ালদিজ বলেন, এই উদ্যোগ কোনো তৃতীয় রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি। বরং আঞ্চলিক সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে তা প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা শক্তিশালী করাই এর উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, বিরোধী দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা চুক্তির পরিধি এবং এর বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, তুরস্কের বিদ্যমান আন্তর্জাতিক চুক্তি ও দায়িত্বের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
চুক্তি অনুমোদনের অর্থ এই নয় যে তুরস্ক তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি আরবে সেনা পাঠাবে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশে সেনা মোতায়েনের জন্য প্রয়োজন হলে আলাদা করে পার্লামেন্টের অনুমোদন নিতে হবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই প্রতিরক্ষা উদ্যোগ
এই চুক্তির মাধ্যমে ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক, পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি সৌদি আরব একটি অভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী রয়েছে তুরস্কের। অন্যদিকে, পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও এই চুক্তির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় দেশটির বিভিন্ন শহর, তেল স্থাপনা ও নৌপরিবহন খাত ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গত জুলাইয়ে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর এ ধরনের হামলার ঘটনাও বেড়েছে।
এ অবস্থায় সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চুক্তির বাস্তবায়ন, সহযোগিতার পরিধি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজস্ব অনুমোদন ও আইনি পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।
