হরমুজে নতুন করে উত্তেজনা, দুই তেলবাহী ট্যাংকারে আগুনের দাবি আইআরজিসির

হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী দুই ট্যাংকারে আগুন, ইরানের দাবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী আরও দুটি ট্যাংকারে আগুন লাগার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অনুমোদনহীন নৌপথ ব্যবহার করে প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় জাহাজ দুটি সমুদ্রের মাইনে আঘাত পায়। তবে এ ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মাইনে আঘাতের পর আগুন লাগার দাবি

আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত দুটি ট্যাংকারের একটি হরমুজ প্রণালীর পূর্বদিকে এবং অন্যটি প্রণালীর ভেতরে অবস্থান করছিল। ইরানের দাবি, জাহাজ দুটি অনুমোদনহীন পথে চলাচলের চেষ্টা করছিল। এ সময় মাইনের আঘাতে সেগুলোতে আগুন ধরে যায় এবং চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ট্যাংকার দুটি তাদের নৌ-চলাচল ও পরিচয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সহযোগিতায় হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।

তবে জাহাজ দুটির নাম, কোন দেশের মালিকানাধীন এবং কতজন নাবিক ছিলেন, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এক দিন আগেও একাধিক জাহাজে আগুনের দাবি

এর আগে বৃহস্পতিবার ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো হরমুজ প্রণালীতে পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার ও একটি টাগবোটে আগুন লাগার খবর প্রকাশ করে। সেসব ঘটনাতেও মাইনের আঘাতকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

পরপর এসব ঘটনার দাবি সামনে আসায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত এসব ঘটনার কোনোটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা বা নৌ-চলাচল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে তেহরান। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে নৌ-চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ইরানের পদক্ষেপের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পারাপারে সহায়তা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) গত মাসে জানিয়েছিল, গ্রীষ্মকাল থেকে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানিতে সহায়তা করেছে মার্কিন বাহিনী। সংস্থাটি সম্প্রতি আরও দাবি করেছে, ওই জলপথ থেকে সব মাইন অপসারণ করা হয়েছে।

তবে ইরানের সাম্প্রতিক দাবির সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই বক্তব্যের স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। এখন পর্যন্ত ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Comment