ইসরাইলের নির্বাচনে আরবদের রেকর্ড অংশগ্রহণ, ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে সংশয় । ভূমিকা নিউজ

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের রুশ-নিয়ন্ত্রিত ওলেশকি শহরে দ্বিতীয় দিনেও যুদ্ধবিরতি বহাল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নেওয়া এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের সংকটে থাকা বাসিন্দাদের কাছে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছেন।

AP News+1

খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকটে ওলেশকির বাসিন্দারা

ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে অবস্থিত ওলেশকি শহরটি ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর সময় রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর থেকে যুদ্ধের প্রভাবে শহরটির বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে খাদ্য, পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

শহরটির সাবেক বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে—এমন কয়েকজন এএফপিকে জানিয়েছেন, সেখানে এখনো আনুমানিক দুই হাজার মানুষ অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি এতটাই সংকটপূর্ণ যে, তাঁদের কেউ কেউ খাবারের জন্য কবুতর শিকার করতেও বাধ্য হয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা এসব মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং ইচ্ছুক বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি করাই বর্তমান যুদ্ধবিরতির অন্যতম উদ্দেশ্য।

৩০ ঘণ্টায় সংঘাতের খবর নেই

বুধবার ইউক্রেন ও রাশিয়ার মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পালরা জানান, ওলেশকিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি তখনো বহাল ছিল।

ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেৎস জানান, যুদ্ধবিরতির প্রথম ৩০ ঘণ্টায় কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি।

রাশিয়ার মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পাল ইয়ানা লানত্রাতোভাও প্রায় একই তথ্য দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির ওই সময়ে শহরটিতে নতুন কোনো সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।

দুই পক্ষের কাছ থেকে পাওয়া এসব বক্তব্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার বিষয়ে আশাবাদ তৈরি করেছে। তবে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

যুদ্ধবিরতির উদ্যোগে মেলানিয়া ট্রাম্প

ওলেশকির বাসিন্দাদের মানবিক সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের উদ্যোগ নেন। তাঁর উদ্যোগে দুই পক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

AFP+1

এই উদ্যোগের আওতায় শহরটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে।

তবে কতজন বাসিন্দা শহর ছেড়ে যেতে চান, তাঁদের কোথায় নেওয়া হবে এবং কোন পথ ব্যবহার করা হবে—এসব বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

নিরাপদে শহর ছাড়ার পথ নিয়ে অনিশ্চয়তা

দিনিপ্রো নদী বরাবর বিস্তৃত যুদ্ধরেখা অতিক্রম করে ওলেশকি থেকে বের হওয়া অত্যন্ত কঠিন। রুশ-নিযুক্ত কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, শহর ছাড়তে ইচ্ছুক বাসিন্দাদের রুশ-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা হতে পারে।

রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, শহর ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল এমন বেশির ভাগ মানুষ ইতোমধ্যে সেখান থেকে চলে গেছেন। তবে ইউক্রেনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, শহরটির অনেক বাসিন্দাই এখনো সেখানে থেকে যেতে চান।

এ কারণে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং যাঁরা চলে যেতে চান, তাঁদের জন্য নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করা যুদ্ধবিরতির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।

আগের যুদ্ধবিরতিগুলো নিয়েও ছিল বিতর্ক

২০২২ সালে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া ইউক্রেনের আইনপ্রণেতা দাভিদ আরাখামিয়া বর্তমান উদ্যোগকে ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় উত্তেজনা প্রশমনের ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এর আগে অর্থোডক্স ইস্টারের মতো ধর্মীয় উপলক্ষকে কেন্দ্র করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে স্বল্প সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এসব বিরতিতে আকাশপথে হামলা কমে এলেও উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল।

ওলেশকির বর্তমান যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকরভাবে বজায় রাখা যায়, তার ওপর শহরটির অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের কাছে জরুরি খাদ্য, পানি ও ওষুধ পৌঁছানোর সম্ভাবনা অনেকাংশে নির্ভর করছে। তবে সহায়তা বিতরণ ও বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে—এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

Leave a Comment