ক্যারিবীয় দেশ হাইতিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর নিখোঁজ চার সালভাদরীয় সামরিক সদস্যকে উদ্ধারে দুই হাজারের বেশি সেনা মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদর। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেশটির সরকার এ তথ্য জানায়। রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছে নিখোঁজ সদস্যদের সন্ধানে চলমান অভিযানে সহায়তা করাই এই সেনা মোতায়েনের প্রধান উদ্দেশ্য। পাশাপাশি হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাং দমনের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে সান সালভাদর।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিসংঘের সমর্থনপুষ্ট গ্যাং দমন বাহিনীর (জিএসএফ) সঙ্গে কাজ করা চার সালভাদরীয় সদস্য গত ১৮ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের বহনকারী সাঁজোয়া যান পোর্ট-অ-প্রিন্সের বাইরে একটি বাজার থেকে ঘাঁটিতে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়। এরপর থেকেই তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
কীভাবে নিখোঁজ হন চার সদস্য?
হামলার ঘটনাটি ঘটে হাইতির রাজধানীর উপকণ্ঠে সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাবাধীন এলাকায়। চার সদস্য তাঁদের ঘাঁটিতে ফেরার সময় হামলাকারীরা সাঁজোয়া যানটিকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। এর পর তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা গ্যাং দমন বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক এই বাহিনী হাইতির নিরাপত্তা বাহিনীকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করছে। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়ন এই মিশনের অন্যতম লক্ষ্য।
তবে নিখোঁজ চার সদস্যের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কেও বিস্তারিত জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
দুই হাজারের বেশি সেনা মোতায়েনের ঘোষণা
এল সালভাদরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, নিখোঁজ চার সদস্যকে উদ্ধারে দুই হাজারের বেশি সেনা নিয়ে বড় পরিসরে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে নিখোঁজ সদস্যদের সন্ধানে এল সালভাদর থেকে বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের হাইতিতে পাঠানো হয়েছিল। নতুন করে সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে সেখানে চলমান অনুসন্ধান ও নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন সেনারা পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছাকাছি প্লেইন দু কুল-দ্য-স্যাক এলাকায় আগে থেকেই মোতায়েন থাকা বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হবেন। ওই এলাকায় নিখোঁজ সদস্যদের সন্ধানে অভিযান চলছে।
তবে নতুন করে পাঠানো সব সেনা জাতিসংঘের সমর্থনপুষ্ট গ্যাং দমন বাহিনীর সরাসরি কমান্ডের অধীনে কাজ করবেন কি না, কিংবা তাঁদের মিশন কত দিন চলবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত স্পষ্ট করা হয়নি।
বুকেলে ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা
নিখোঁজ সদস্যদের উদ্ধারে অভিযান নিয়ে বুধবার হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক দিদিয়ে ফিলস-আইমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় উদ্ধার অভিযান এবং হাইতিতে নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হাইতির ক্রেওল ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে বুকেলে দেশটির সশস্ত্র গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিখোঁজ সালভাদরীয় সদস্যদের মুক্তি না দেওয়া হলে হাইতির গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধেও এল সালভাদরে নেওয়া পদক্ষেপের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এল সালভাদরে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর জন্য পরিচিত বুকেলে। তাঁর সরকারের সেই অভিজ্ঞতা হাইতিতে প্রয়োগের ইঙ্গিতকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
হাইতির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
হাইতিতে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গ্যাংগুলোর তৎপরতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় এসব গোষ্ঠীর প্রভাব থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ অবস্থায় নিখোঁজ চার সদস্যকে উদ্ধারে এল সালভাদরের বড় পরিসরে সেনা মোতায়েন দেশটিতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতার পরিধি বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে অভিযানের ফলাফল, নিখোঁজ সদস্যদের অবস্থান এবং ভবিষ্যতে সেনাদের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্যের অপেক্ষা করতে হবে।
