এইচএসসি ও সমমানে জিপিএ-৫ কমেছে প্রায় ২৯ হাজার

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার সর্বোচ্চ ফল পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। একই সঙ্গে সামগ্রিক পাসের হারও কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র বেশি

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পাওয়া ৪০ হাজার ৮৪ জনের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন।

বোর্ডভিত্তিক হিসাবে, দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ১৮ হাজার ১৫৫ জন এবং ছাত্রী ১৭ হাজার ৭৯৩ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২ হাজার ২৮ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ২২২ জন।

অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম/বিএমটি, ভোকেশনাল ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৮৬ জন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ১৮০ জন এবং ছাত্রী ৭০৬ জন।

বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার সর্বোচ্চ

সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞানে পাসের হার সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে গড় পাসের হার ৭৩ দশমিক ১২ শতাংশ।

এ ছাড়া মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪২ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ কমেছে ২৯ হাজার

গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ছিলেন ৩২ হাজার ৫৩ জন এবং ছাত্রী ৩৭ হাজার ৪৪ জন।

সে হিসাবে, চলতি বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২৯ হাজার ১৩ জন কমেছে।

এদিকে, গত বছর সামগ্রিক পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। অর্থাৎ, পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট।

মোট পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছর দেশের ৯টি সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন।

উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন। অর্থাৎ, ছাত্রদের তুলনায় ৬৬ হাজার ৩৭১ জন বেশি ছাত্রী পরীক্ষায় পাস করেছেন।

অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা, মূল্যায়নে নতুন মাত্রা

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার যথাসময়ে পরীক্ষা গ্রহণ, পূর্ণ সিলেবাস ও পূর্ণ নম্বরে পরীক্ষা আয়োজন এবং সারা দেশে প্রথমবারের মতো অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বিষয় ফলাফল মূল্যায়নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব কেরামত আলীসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment