চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। ফলাফলে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাসের হার—দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা। এবার সাধারণ বোর্ডগুলোতে ছাত্রদের চেয়ে ৮৫ হাজার ৬৭১ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সাধারণ ৯ বোর্ডে পাস করেছেন ৫ লাখ ৪১ হাজার শিক্ষার্থী
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ লাখ ৪১ হাজার ২৪৯ জন। এ বছর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন শিক্ষার্থী।
পাসের হার ও সংখ্যায় এগিয়ে ছাত্রীরা
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর ৪ লাখ ৮৩ হাজার ১৯১ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ জন। তাঁদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ১৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৩৩৯ জন ছাত্রীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ লাখ ১৩ হাজার ৪৬০ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
অর্থাৎ, পাসের হারে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। পাশাপাশি উত্তীর্ণ ছাত্রের তুলনায় ৮৫ হাজার ৬৭১ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছেন।
জিপিএ-৫ পাওয়ায় ছাত্রদের সংখ্যা সামান্য বেশি
পাসের হার ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যায় ছাত্রীরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ অর্জনে ছাত্রদের সংখ্যা কিছুটা বেশি।
এ বছর সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পাওয়া ৩৫ হাজার ৯৪৮ জনের মধ্যে ছাত্র ১৮ হাজার ১৫৫ জন এবং ছাত্রী ১৭ হাজার ৭৯৩ জন। অর্থাৎ, জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রের সংখ্যা ছাত্রীর চেয়ে ৩৬২ জন বেশি।
১ হাজার ৬২৮ কেন্দ্রে পরীক্ষা, নজরদারিতে ছিল সিসিটিভি
এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪ হাজার ৬১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ১ হাজার ৬২৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পরীক্ষার সময় দেশের সব কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কেন্দ্রের প্রবেশদ্বারে পুলিশের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।
সব বোর্ড মিলিয়ে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ
এদিকে, দেশের ৯টি সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন।
উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন। সব বোর্ড মিলিয়ে ছাত্রদের তুলনায় ৬৬ হাজার ৩৭১ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছর যথাসময়ে পরীক্ষা গ্রহণ, পূর্ণ সিলেবাস ও পূর্ণ নম্বরে পরীক্ষা আয়োজন এবং সারা দেশে প্রথমবারের মতো অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় ফলাফল মূল্যায়নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব কেরামত আলীসহ সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন
