এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটের কনটেন্ট অনুমতি ছাড়া সংগ্রহ বন্ধে প্রকাশকদের জন্য অভিন্ন একটি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে প্রযুক্তি খাতের চার বড় প্রতিষ্ঠান—ওপেনএআই, গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যানথ্রোপিক। নতুন এই ব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট নির্দেশনার মাধ্যমেই একাধিক এআই প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের ওয়েবসাইটের তথ্য ব্যবহার না করার অনুরোধ জানাতে পারবেন প্রকাশকেরা।
শুক্রবার প্রতিষ্ঠানগুলো এ উদ্যোগের কথা জানায়। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পদ্ধতিতে ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষকে প্রতিটি এআই বটের জন্য আলাদাভাবে কনটেন্ট সংগ্রহ বন্ধের নির্দেশনা দিতে হবে না। একটি অভিন্ন ফরম্যাটের নির্দেশনাই গ্রহণকারী এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।
ধাপে ধাপে চালু হবে নতুন ব্যবস্থা
প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটি পুরোপুরি কার্যকর হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলো ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা জানিয়েছে।
মাইক্রোসফট ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন ব্যবস্থা চালুর কথা জানিয়েছে। গুগল একই বছরের কোনো এক সময়ে এটি বাস্তবায়ন করবে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তারা এ পদ্ধতি চালু করবে। আর ক্লডের নির্মাতা অ্যানথ্রোপিক ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরোধ
এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সংগ্রহকারী বটের ব্যবহার বাড়ছে। এ নিয়ে প্রকাশকদের সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরোধও তীব্র হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কনটেন্ট ব্যবহার নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের মতো সংবাদমাধ্যম আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিউইয়র্ক টাইমস ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে মামলা করে। পত্রিকাটির অভিযোগ, তাদের প্রকাশিত লাখ লাখ প্রতিবেদন অনুমতি বা অর্থ পরিশোধ ছাড়াই চ্যাটজিপিটি প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে প্রতিষ্ঠান দুটি কপিরাইট আইনের ‘ফেয়ার ইউজ’ বা ন্যায্য ব্যবহারের বিধানের কথা উল্লেখ করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। এই বিধানের আওতায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কপিরাইট সুরক্ষিত উপাদান অনুমতি ছাড়াও ব্যবহার করা যেতে পারে।
কনটেন্ট ব্যবহারে প্রকাশকদের সিদ্ধান্তের প্রভাব
ইন্টারনেট অবকাঠামো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার ২০২৫ সালের জুলাই থেকে নতুন গ্রাহকদের ওয়েবসাইটে ডিফল্টভাবে এআই বটের প্রবেশ বন্ধ রাখার সুবিধা চালু করেছে। এ ছাড়া ‘রিয়েলি সিম্পল লাইসেন্সিং’ নামে একটি মানদণ্ডের মাধ্যমে ওয়েবসাইটে প্রবেশকারী বটগুলোর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
মাইক্রোসফটের ব্লগ পোস্টে বলা হয়েছে, নতুন অভিন্ন ব্যবস্থা শুধু ভবিষ্যতে এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য কনটেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মাধ্যমে ওয়েবসাইটে বটের স্বাভাবিক প্রবেশ বা তথ্য সংগ্রহ পুরোপুরি বন্ধ হবে না। ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ নিজে সেটিংস পরিবর্তন না করা পর্যন্ত কনটেন্ট সংগ্রহের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু থাকবে।
অন্যদিকে, মাইক্রোসফট ও গুগল সতর্ক করেছে, কোনো প্রকাশক তাদের কনটেন্ট এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করতে না দিলে এআই অ্যাপ ও অন্যান্য সেবায় সেই প্রকাশকের কনটেন্ট প্রদর্শনের সুযোগ কমে যেতে পারে।
উদ্যোগে সমর্থন মেটার
নতুন উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মেটাও। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, একটি অভিন্ন সংকেত বা নির্দেশনার মাধ্যমে একাধিক সেবাদাতাকে কনটেন্ট ব্যবহারের বিষয়ে প্রকাশকদের সিদ্ধান্ত জানানো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এ ধরনের মানদণ্ড তৈরি ও বাস্তবায়নে এআই খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কাজ করতে মেটা আগ্রহী বলে জানান তিনি।


